সোমতীর্থ নন্দী

লুলু থেকে পালিয়ে

শিল্পী:অর্পণ ঘোষ 

১ 

প্রায় অর্ধেক আকাশগঙ্গা পার হবার পর ঝিঝো দুটো বিয়ার হাতে কন্ট্রোল রুমে এসে ফাইনালি রিপোর্ট করল “হাতের দুটো ধরে নকোটি ঊনচল্লিশ”
বিয়ারবিদ্ধ একটা ঢেঁকুর মূলক শব্দ করে ওপাং মনিটরের দিকে দেখে নিল খানিক, এই চত্বরে ভুলভাল গ্রহের কিম্ভুত সব মহাকাশযানের টুকরা টাকরা ঘুরে বেড়ায়, একটু ছোঁয়া লেগেছে কী সব ধুল হো যায়গা, ডাস্ট পার্টিকলস্‌। “এই বড় ফ্রিজটা খুব কাজে দিয়েছে কী বল?”
“ইয়াপ” ঝিঝো মাথা নাড়ল, “ছোট ফ্রিজগুলো ফালতু”
“আমি ফালতু ফ্রিজ দু চক্ষে দেখতে পারিনা, বাজে জায়গা নেয়”
“ইয়াপ” আবার ঝিঝো একই শব্দ করল, এটা ওর ইদানিংকার প্রিয় শব্দও বটে। ওর জানা ব্রহ্মান্ডের পোনে নহাজার কোটি ভাষার খোদায় মালুম কত কোটি শব্দের মধ্যে থেকে, এই গত পরশু ওর প্রেমিকা ওকে ছেড়ে চলে যাবার পর ঝিঝোর মনে হয়েছে এটাই ব্রহ্মান্ডের সবচেয়ে মিষ্টি শব্দ। শব্দটা এতটাই কর্মক্ষম যে ভুল ভাবার কোন সুযোগই নেই। যেমন ধরা যাক ‘ভালোবাসি’ এই শব্দটার কয়েকশো মানে হতে পারে, অসম্ভব সুন্দর থেকে বিপজ্জনক। নির্ভর করেছে কীভাবে বলা হল, কে বলল, তার কতটা শ্বাসাঘাত ছিলো তাতে, কতটা রোদ ছিল তখন বাইরে, আর কী কী শব্দ ছিল বাক্যটিতে, এক কথায় ভালোবাসা আর গণহত্যা একই অনুভুতির এপিঠ আর ওপিঠ, আতঙ্কের, উত্তেজনার, আত্মোৎসর্গের। কিন্তু ইয়াপ এমন একটা শব্দ যে ওসব ঝেড়ে ফেলে একগাল হেসে হাত বাড়িয়ে দেয়, কোন দ্বিচারিতা নেই।
“আরেকটা বিয়ার?” ওপাং অনেক দেখে ক্লান্ত হয়ে বলল
“ইয়াপ”পরিষ্কার। ভালো। কোন সন্দেহ নেই।
ওপাং ফ্রিজারকে দুটো বিয়ার দিতে বলল। আলোর গতির তিনগুন বেগে ওড়ার সময় বিয়ারের থেকে ভালো কিছু হতেই পারেনা। কেন এমন মনে হয় ওপাং এর তা ও জানেনা। বিয়ার হাইস্পিডে অসম্ভব ভালো লাগে খেতে, কেন তা ও জানেনা। সায়েন্সে নিশ্চই কারণ বলতে পারবে। ওপাং ভেবেছে একদিন সাইন্টিস্টদের চিঠি লিখবে।
“আহাহা এই মহাশূণ্যের ওপার দিয়ে ভেসে যাবার সময় বিয়ার সবচেয়ে ভালো জিনিস, নয়?”
“ইয়াপ, আর ভেসে যাবার জন্য আকাশগঙ্গা সবচেয়ে ভালো জায়গা নয়?”
“ইয়াপ” এবার ওপাং ও ফিরে বলল
“তবে তো ইয়াপ স্কোয়ার”
“ইয়াপ টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি” ঘোষণা করে ওপাং আস্তে করে তিনটে মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতে হয় এমন একটা গ্রহের মাদকের ট্রেলারকে পাশ কাটাল। এটা ওপাং এর বড় প্রিয় জিনিস, খেলে কোন কিছু ছাড়াই মহাকাশে নেমে পড়া যায়, এক লাফে পৌঁছে যাওয়াও যায় মহাকাশে, ঝিঝো খেতে বারণ করেছে, একবার নাকি ওটা খেয়ে লাফালাফি করায় ওর পুরো বাড়ি ধ্বসে পড়ে গেছিল। ওপাংও খাবেনা।


২ 

ওরা আসলে পালাচ্ছে। যদিও পেছনে কেউ তাড়া করেনি ওদের, তবুও ওপাং আর ঝিঝো পেছনে ফিরে তাকানো থেকে নিজেদের আটকাতে পারলনা। ওদের গ্রহ, ওদের বড় হয়ে ওঠার মাটি। গ্রহটার নাম উচ্চারণ করা যাবেনা যদিও, কারণ মহাজাগতিক জীব বৈচিত্র্যের বিন্যাসে বাঙালীরা তিনশো আটচল্লিশটা দাঁত বা আড়াই ফুট লম্বা জিভ, কোনটাই পায়নি। সুবিধার্থে লুলু বলা যায়, অবশ্য এই ক্রিয়েটিভ ফ্রিডমটা আগেই নেওয়া হয়েছে, ওদের নাম অবশ্যই ওপাং আর ঝিঝো নয়।
গ্রেট হর্স নেবুলার নাকের ডগায় অবস্থিত এই লুলু গ্রহে গত আটচল্লিশ ঘন্টায় ওপাং আর ঝিঝোর চাকরি গেছে, প্রেমিকা গেছে, কুকুর* গেছে। লুলুতে চাকরি যাওয়া কোন ব্যাপার নয়, বিশেষতঃ এই রিসেসনের বাজারে। তো একদিন সকালে বেরিয়ে ওপাং আর ঝিঝো আবিষ্কার করল ওদের সেদিন আর কোথাও যাবার নেই। যে বিয়ারের কারখানায় ওরা চাকরি করত তাতে তালা ঝুলছে।
*কুকুর মহাজাগতিক সব জীবজগতের মধ্যে দেখা যায়, এটা অল্প জানা মহাজাগতিক সত্য। কুকুরীয় সত্যও বটে।
প্রেমিকা হারানোটা একটা অসম্ভব খারাপ ব্যাপার। যদিও সে আশঙ্কা যে ছিল না তা নয়, ওপাং এর প্রেমিকা বলেই ছিল তার চাকরি গেলে সেও ওকে ছেড়ে চলে যাবে, ওপাং পাত্তা দেয়নি, বরং তার প্রেমিকার অনেক না বোঝা অভিমান বা রসিকতার মধ্যে এটাও একটা ভেবে কষ্ট পেয়েছে। ওপাং লুলুর মেয়েদের ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা। এবং এই না বোঝার লিস্টে দ্বিতীয় জিনিস তাদের রসিকতা, জামা কুড়িয়ে আলনায় রাখা, টয়লেট সিট পরিপাটি করে নামিয়ে রাখা, কিন্তু ওপাং কখনোই ভাবেনি বেইই ওকে এভাবে ছেড়ে চলে যাবে, আর তাও এখন যখন ওকে ওপাং এর সবচেয়ে বেশী দরকার।
ঝিঝো অবশ্য আগেও লাথ খেয়েছে। এ ব্যাপারে তার মধ্যে একটা স্বকীয়তাও আছে। এবং তার এই নব্য লাথটি পর্যন্ত হিসেব করে সে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে সে বিয়ার কোম্পানীর কপিরাইটার ঝিঝো আসলে মহাজাগতিক সমস্ত ভাষার পাঞ্চলাইন ঠাসা একটা পাঞ্চব্যাগ। ওর প্রেমিকা ওকে ব্যাগপত্র নিয়ে কেটে পড়তে বলায় ঝিঝো ব্যাগ গোছালো একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রাজ্ঞ কেরাণীর মত। “এতদিন আমাকে সহ্য করার জন্য ধন্যবাদ”, ঝিঝো পেছনে দরজা বন্ধ হবার শব্দ শুনতে পেল। সে বিদায় বলতে চেয়েছিল।




“কুকুরগুলোকে আনলে ভালো করতাম” ছোট্ট উজ্জ্বল মেঘটার দিকে তাকিয়ে ঝিঝো আপন মনেই লুলু খঁজতে খঁজতে বলল, যে গ্রহটাকে সতেরো ঘন্টা আগেও ও নিজের বাড়ি বলে জানতো।
“কুকুর নিয়ে গোটা মহাকাশের এপার ওপার করা যায়না” ওপাং অভিজ্ঞ মতামত দিল, “মালগুলো মহাকাশে পুরো ক্ষেপে যায়” হাতের বিয়ারটা মুখে চালান করে আর একটা বিয়ার খুললো ওপাং “একটা কিছুর টোকা লাগবে কী কেঁই কেঁই করে গোটা গাড়ি মাথায় তুলবে আর হিসি করবে”
“জানি, মনে হল হঠাৎ, আনলে ভালো হত” বিয়ারটা খেয়ে ঝিঝো নিজেদের নেবুলার দিকে তাকালো। “ওপাং আমাদের নেবুলাতে কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে কেমন যেন ফুলে চ্যাপ্টা হয়ে গেছে”
“নেবুলা ফুলে চেপ্টে যায়না বাবা, ছড়িয়ে যায়, সারা মহা বিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে, সময়ের সাথে সাথে, প্রথম থেকে মহাবিশ্ব শুধুই ছড়াচ্ছে”
ঝিঝো ঘাড় কাত করে দেখে বলল “তবু, বিচ্ছিরি দেখাচ্ছে” 
“তোর নেশা হয়ে গেছে”
“কিমবা আমি উলটো করে দেখছি বলে এমন লাগছে” ঝিঝোর পা-এর মত ব্যাপারটা এখন ওপরে।
“দুর ছাগল, মহাকাশে আবার সোজা উলটো কী?”
“অ্যাদ্দুর ভাবিনি” ঝিঝো সোজা হয়ে বসে বিয়ার টেনে নিল।
“ভাবো ভাবো এইগুলো জেনে রাখা ভালো। এগুলো জানলে বাস্তবের সাথে সম্পর্কে থাকা যায়, দোস্তি থাকে আর কী”
গুরুগম্ভীর বাণী বলেই মনে হল ঝিঝোর। ও ওর সবুজ মুখ জিভ দিয়ে চেপে বলে উঠলো “ইয়াপ”
কিছু প্ল্যান করে বেরোয়নি ওরা। আকাশগঙ্গায় আসার প্ল্যান ও ছিলোনা। সে অবশ্য মহাজাগতিক লংড্রাইভে বেরোনো সবাই বলে প্ল্যান করে কিছু হয়না, সবচেয়ে ভালো প্ল্যান হল ১]যেকোনো দিকে তাক করে দাঁড়াও ২]গ্যালাক্সি বেছে নাও একটা ৩] আলোর গতির অনেকটা ওপরে কাঁটা তুলে দাও ৪] পেছনে ফিরে তাকিও না। একমাত্র এভাবেই হয়। এর বাইরে প্ল্যান করেছ কী পুরো মজাটাই মাটি।




ওপাং আর ঝিঝোর একমাত্র প্ল্যান ছিল যত জোরে সম্ভব যত দূরে সম্ভব যাওয়া। যতক্ষন না তারা মহাবিশ্বের ওপারে পৌঁছাচ্ছে বা বিয়ার শেষ হচ্ছে, যেটা আগে হবে। এটা তাদের সবচেয়ে বড় interstellar overdrive, এবং যদিও এটা ওরা মুখে বলছেনা, কিন্তু দুজনেই এটা জানে যে এটা ওদের শেষ লংড্রাইভও হতে পারে। না ফেরার ট্রিপ। লুলুতে ওদের জন্য আর কিছু নেই, কিচ্ছু না, এবং যদি ওরা ফেরে তবে ওদের কে আবারও সেই একই দিনের একই চক্রের পরতের পর পরত চাকার মধ্যে ঢুকে যেতে হবে, অনড়, অচল ফাঁদে জড়িয়ে একই বেডরুমের একই পর্দা ধরে একই ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে সারা জীবন।
অবশ্যই ওরা দুজনে একই কথা ভাবেনি, কিন্তু একই ভাবনা দুজনের মধ্যে কাজ করছিল, যে অন্য কোথাও যেতে হবে, লুলুর থেকে দূরে, এবং এখন যখন তারা ঠিক সেটাই করতে করতে আকাশগঙ্গার মধ্যে চলে এসেছে, তাদের, বিশেষ করে ঝিঝোর মধ্যে একটা ফিসফিসে গলা কথা বলতে শুরু করল। ঠিক মনে হল সেই গায়ক লার্ভায় আক্রান্ত গ্যাংগ্রীন হয়ে যাওয়া গলায় ঝিঝো কিছু বলছে, কিমবা যেন একটা ওলাবিবির ভর হওয়া পিঁপড়ে ভিনগ্রহী ভাষায় কথা বলছে। প্রথমে ফিসফিসে গলায় শুরু হলেও লুলু যত দূরে যাচ্ছে ক্রমশ তা বাড়তে শুরু করল, “ওপাং” ঝিঝোর গলায় ভাঙচুর, “আমাদের থামতে হবে”
“অসম্ভব। এখানে এসে আর থামা যায়না” টুক করে কিছু কফিন পাশ কাটাল ওপাং, “আর তাছাড়া লুলুতে আমাদের জন্য আর কিছু নেই”হাতের বিয়ারটা গলায় ঢেলে দিতে দিতে ও বলল
“না, আমি বলছিলাম, শিগগির একটা গ্রহ দেখে থামতে হবে, মোষের মত হিসি পেয়েছে আমার”
“ও-ও সে করাই যায়”
ওপাং সবচেয়ে কাছের সৌরজগতটার দিকে গাড়ির মুখ ঘুরিয়ে দিল। অন্য গ্রহে হিসি করা মহাশূণ্য ভ্রমণের সবচেয়ে মজার কাজ। অজানা কোন তারার আলোয় হিসি করা যে শুধু তৃপ্তি দেয় তাই নয়, দুজন পুরুষের মধ্যে মেল বন্ডিং বাড়াতেও অত্যন্ত সহায়ক। অন্য আলো, অন্য হাওয়ার তলায় দুজন পুরুষ যখন হিসি নিয়ে ক্রিসক্রস খেলে তার থেকে নয়নাভিরাম দৃশ্য কিছু হতে পারে? ঝিঝো আর ওপাং মহাবিশ্বের বিভিন্ন কোণায় এভাবে নিজেদের মেল বন্ডিং শক্ত করেছে, যদিও বাড়ি থেকে এতদূরে কখনোই নয়। এছাড়াও ঝিঝোর মনে হয় নতুন নতুন সৃষ্টির ওপর হিসি করা মহাবিশ্বের মহাপ্রাণের সাথে যোগাযোগ করার একটা অসাধারণ উপায়। ওদের পরিচয়ের সুত্রপাত ও এই ভাবে মহাপ্রাণের সাথে যোগাযোগ করতে গিয়েই হয়েছিল। তারপর থেকে ওপাং আর ঝিঝো বাইশটা গ্যালাক্সির সাথে আত্মিক যোগাযোগ সৃষ্টি করেছে, নিজেদেরটা ধরলে তেইশটা।
“ওই নীলটা, নীলটা” ঝিঝো চেঁচিয়ে উঠল কন্ট্রোল প্যানেলের দিকে দেখিয়ে “ওই নীলটার ওপর মুতব”
“চলো, লেট্‌স্‌ গো-ও-ও” মূহুর্তের মধ্যে ওরা পৃথিবী নামক গ্রহের বায়ুমন্ডলে ঢুকল এবং কলকাতা নামক একটা শহরের পাশে একটা শুকনো নালার মধ্যে নামল।
“ই-ই-ই-হ” চারদিক দেখে নিয়ে চোখ কুঁচকে ওপাং বলল “এই জায়গাটা একেবারে জঘন্য”
“ইয়াপ, আর চ্যাপ্টা, একদম চ্যাপ্টা, সবকিছু চ্যাপ্টা”
“হু-ম-ম চ্যাপ্টা বটে, এর থেকে চ্যাপ্টা হয়না”
“ওপর থেকে দেখে তো গোলই লাগলো” ঝিঝো খুব ধন্ধে আকাশ আর নালার ধারে একটা মরা গাছ দেখতে লাগলো।
“হ্যাঁ দূর থেকে আর ওপর থেকেই দেখতে ভালো লাগে সবকিছু, ধুর”




ওরা পৃথিবীর একটা মরা গাছের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে নালাটাতে হিসি করল, কলকাতায় ততদিনে শেষ বৃষ্টি হবার একবছরের ওপর পার হয়ে গেছে। শুকনো ফুটিফাটা মাটি চোঁ করে ভিনগ্রহী হিসি শুষে নিল।
“ওরে বাবা” খানিক টাল সামলে ওপাং বলল, “এতো নেশা কী করে হল রে ভাই”
“ইয়াপ, আমারও... প্রচুর”
“আমার মনে হয় এখানকার হাওয়া বাতাস ঠিক না, কত বিয়ার খেয়েছি বলত লুলু ছাড়ার পর থেকে? খুব বেশী হলে সাত কী আটশো” একপাশে হেলে ওপাং মাটির কাদা হয়ে যাওয়া দেখল।
“আমার কেমন যেন হালকাও লাগছে”
“আমারও। এখুনি নোট রেখে দিতে হবে। নীল গ্রহে আর কক্ষনো না”
“একদম”
অনেকক্ষন হিসি করে হালকা হবার পর ওরা ওদের গাড়ির ছায়ায় এসে আর এক ক্রেট বিয়ার নিয়ে বসল, খানিকক্ষনের মধ্যেই ওদের ভাবনাচিন্তা হাঁড়ির মধ্যে রাখা বাইন মাছের মত কিলবিল করতে শুরু করল। আর সূর্য যখন মাথার ওপরে, ওদের মধ্যে কেউই তখন আর দাঁড়াতে পারছেনা।
“কুকুরগুলো থাকলে সত্যিই ভালো হত” ঝিঝো বিয়ার খেয়ে বলল, “মিস করছি ওটাকে”
“ইয়াপ” আর একটা বিয়ার খুলে ওপাং সায় দিল “আমিও”
“কাকে বেশী মিস করছিস বল, কুকুর না বেইই?”
“কুকুর”
“আমিও”
দূরে কলকাতার দিকে কোথাও ধোঁয়া উঠে মেঘের সাথে মিশে যাচ্ছে
“ওদিকে কিছু একটা পুড়ছে”
“ইয়াপ” ঝিঝো বলল, “কিছু করা উচিৎ, না?”
“আমি কী জানি?” ঝিঝো একটা ক্যান ছুঁড়ে ফেলে আর একটা খুলে ওপাংকে একটা খুলে দিল।
“অন্য গ্রহে সাবধানে থাকতে হয় ঝিঝো, বিশেষ করে যখন কোথাও কিছু পুড়ছে। হয়তো যা পুড়ছে তা পোড়ারই কথা, কিছুই বলা যায়না”
“কখন কী ঘটে যায়...”
“কী ঘটে?” খানিকক্ষন অপেক্ষা করে ওপাং বলল
“কী জানি, মনে হল এ কথাটা বলাই ঠিক হবে” ঝিঝো গাড়িতে হেলান দিয়ে বসল, “ও-হ-হ কী চড়েছে রে বাবা”
“এখানকার হাওয়া বাতাস ঠিক নেই বলছি আমি” ওপাং স্বচ্ছ আকাশের দিকে তাকিয়ে মতামত দিল “আমাদের এক্ষুনি এখান থেকে বেরোনো উচিৎ”
“ইয়াপ” ঝিঝো আড়মোড়া ভাঙল, “দু মিনিট বসি, দাঁড়াতে পারছিনা”
“ঠিক আছে, পাঁচ মিনিট, তারপর হুশ”
“কোথায় যাবো?”
“জানিনা লুলুতে ফিরবোনা, লুলুর সাথে জন্মের শোধ চুকিয়ে দিয়েছি”
“ইয়াপ, লুলুতে না, অন্য কোথাও, কোথাও তো যাবো আমারা?”
“একটা ব্ল্যাক হোল খুঁজে বের করি আর অন্য একটা তরঙ্গে চলে যাই? অন্য বিশ্বে?”
“হুমম খারাপ না, কিন্তু ব্ল্যাক হোলটা পাবো কোথায়?”
“এদিক ওদিক খুঁজতে হবে একটু। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আমরা কোন বিয়ারের গ্রহে গিয়ে পড়ি”
“এটা হেবী হবে” ঝিঝো কোন একটা দিকে কাত হয়ে শুল, ওর শরীরে দিক বোঝা যায় না “ওপাং লুলুতে না ফেরার ব্যাপারটা ভেতর থেকে ভেবে বলছিস?”
“আমার তো তাই মনে হয়, কেন তুই কী ফেরার কথা ভাবছিস? তাহলে বল এক্ষুনি ফিরবো”
“ফেরার কথা ভাবছিনা, তবে এটা হয়তো আমাদের শেষতম ঘোরা, তাই ভাবছিলাম, শেষতম” কাত হয়ে শুল ঝিঝো।
“আমিও এরকম ভেবেছিলাম একবার, খুব ভয় করলো তাই ভাবনাটা খেয়ে ফেল্লাম”
“আমরা এখানে মারা গেলে ওদের খুব কষ্ট হবে বল?”
“না হবেনা” ওপাং দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ওর মাথা ঝুঁকে এলো মাটিতে, “কিন্তু এটা ভাবতে দারুণ লাগে না?”
ঝিঝো ঘুমোচ্ছে, উত্তর করলোনা, ওপাং ও শুনতে পেলনা ঝিঝো যে উত্তর দিলোনা, ওও ঘুমোচ্ছে তখন।




একটা নিঃশব্দ চাঁটির মত কলকাতায় রাত নেমে আসছে, একটা একটা করে বাড়িতে আলোগুলো মিটমিটে হয়ে এলো। ক্লান্ত শহর, এই কলকাতা। ঠিক আটচল্লিশ বছর আগেকার পৃথিবীব্যাপী নিউক্লিয়ার হলোকাস্টের সময় কলকাতার ওপর বোমা পরেনি ঠিকই, কিন্তু তৎপরবর্তী বন্যায়, দুর্ভিক্ষে, নাম না জানা রোগে আর দাঙ্গায় তার যা চেহারা হয়েছে তা দেখে আত্মহত্যা করার লোক কলকাতায় আর একটিও অবশিষ্ট নেই। রক্ত আর হাড়ভর্তি ক্লান্তি দিয়ে তৈরী ক্লান্ত মানুষ মাথা বুকের কাছে ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় এখানে, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার ভয়ে ভীত মানুষগুলো যখন রাত্রে ঘুমোয় স্বপ্ন দেখেনা ওরা, তার বদলে স্বপ্নে দেখে স্বপ্ন দেখার দিনের কথা, কেমন ছিল সে সবকিছু পেয়ে যাবার দিনগুলি, হেমন্তের অরণ্যে পোস্টম্যানের ঘুরে বেড়ানোর দিনগুলি। স্বপ্ন বলে ভুল হওয়া একটা অনুভুতি। আঁটসাট। মুঠিবদ্ধ।
সময় এখানে দাঁড়িয়ে থাকে। একদিন থেকে আরেক দিন আলাদা করা যায় কটা মানুষ কমে গেলো সেই হিসাব দিয়ে। একই ছায়া রাস্তা পার করে, বারান্দায় সেই একই মাছি মরে পড়ে থাকে, পাখিরা সেই একই গান শোনায় যদি আদৌ কখনো শোনা যায় সেই শব্দ। আর রাত্রে ঝিঁঝিঁ ডাকে। তারা যে ডাকছে তা বিন্দুমাত্র না জেনে ঝিঁঝিঁরা সারা রাত্রি ডেকে যায়, যতক্ষন না ভোর হচ্ছে।
কিন্তু সেদিন সবকিছু সবারই কেমন নতুন ঠেকল, একটা পরিবর্তন, রোদটা বড় বেশী ঝকঝক করছে, হাওয়ায় একটা ছন্দ, সুর। সকাল থেকে যেন ফুলকি ছিটকে বেরোচ্ছে। ব্যস্ততা, দমবন্ধ কী হয় কী হয় ভাব, ঠিক বহুদিন আগে সেই মহাকরণ নামক বাড়িটা যেদিন গড়াতে গড়াতে অদৃশ্য হয়ে গেল সেদিন সকালের মত চাপা। ঝিঁঝিঁরাও যেন এটা বুঝতে পেরে আজ ভোর হবার পরেও ডেকে যাচ্ছে।
কলকাতার দক্ষিণে কোন এক শুকনো নালার ভেতরে ওপাং পাশ ফিরল, মিটমিট করে তাকিয়ে সূর্যটাকে দেখল। এবার একটু জ্ঞান হতে বুঝল রক্তাভ চোখ প্রতিটি হৃৎস্পন্দনের সঙ্গে দুম দুম করে বাড়ি মারছে, পেটের মধ্যে বেজন্মার জাত এনজাইমগুলো কিছু একটা নিয়ে বিদ্রোহ করেছে, কোনভাবে ওর জিভে এই নীল গ্রহের ছোট ছোট গাছ গজিয়ে গেছে (ঘাস) এবং বেঁচে থাকার কোন রকম ইচ্ছে ওর জীবনে আর নেই। একটা ভিন গ্রহে দিন শুরু করার এর থেকে খারাপ উপায় আর কিছু হতেই পারেনা।
ঝিঝোর অবস্থাও প্রায় একই ওর গায়ে এই গ্রহের মাটির টুকরো (নুড়ি) এমন ভাবে সেঁটে বসেছে যেন এগুলো ওখানেই গজানো। গাড়ির ওপরে উঠে বসে ও ঠোঁট থেকে সাদা পর্দার মত জিনিসটা ছাড়াচ্ছিল, যখন ওপাং উঠে বসল। পরিচিত মাতালের মত একে অপরের দিকে তাকিয়ে ওরা অপরাধীর হাসি হাসল।
“গুড মর্নিং ওপাং”
“গুড মর্ণিং ঝিঝো” অত্যন্ত বিরক্তি সহকারে আকাশের দিকে তাকিয়ে ওপাং জিগ্যেস করল “যমের কত নম্বর দুয়োরে আমরা?”
“সেই নীল গ্রহ... মনে আছে?”
ওপাং মনে করার চেষ্ট করল, “ও আচ্ছা কিন্তু আমরা তো কাল এখান থেকে বেরিয়ে গেলাম”
“নাঃ ঘুমিয়ে পড়লাম”
“হুমম”
ঝিঝো গাড়ির ভেতর থেকে দুটো বিয়ার নিয়ে এসে একটা ওপাং কে দিল। “গরম হয়ে গেছে”
“আবর্জনার মত লাগছে... ছ্যাঃ” বিয়ার খুলতে খুলতে ওপাং ভাবল এটা হয়তো একটু ঠিক করবে মুডটা।
“জানিস আমাদের নতুন গ্রহে নামার সময় মাতাল হওয়া উচিৎ নয়, বিচার বুদ্ধি ও একটু কম কাজ করে মাতাল হয়ে গেলে”
“একদম, কিন্তু কী বলতে চাইছিস?”
“কিচ্ছু বলতে চাইছিনা, আমার কিছুই বলার নেই, তুই জানিস, আমার কখনোই কিছু বলার থাকেনা”
“ইয়াপ” ওপাং হাসল “আমারও নেই” একটা বড় লম্বা চুমুক দিতে গিয়ে বিষম খেয়ে ওপাং প্রথম লক্ষ করল ডানদিকের বিশাল কালো চকচকে আয়তাকার পাথরটাকে। “একি একি এটা কী? কাল রাতে তো ছিলোনা এটা, ছিল?”
“না” ঝিঝো বলল, “হয়তো কাল রাতে এসেছে আমরা যখন গভীর বিয়ারে ছিলাম। আমি সকাল থেকে ভাবছি এটাকে নিয়ে কী করা যায়,” হাতের বিয়ারটা খেয়ে নিল ঝিঝো, “এটা কিছু বলেও না”
ওপাং নতুন এই আগন্তুক কে পুরোটা ঘুরে একবার দেখল, এবং চিন্তিত হয়ে, খানিকক্ষন ঠোঁটের কোনাটা চুলকে নিল।“আচ্ছা এগুলোকেই তো মনোলিথ বলে? আমি শুনেছি এগুলোর কথা, মহাশূণ্যে উড়ে বেড়ায়, ব্রহ্মান্ডের সমস্ত তথ্য, সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ঠাসা আছে এটাতে, কোন গ্রহের প্রাণীদের যখন সভ্য হবার সময় হয় তখন এটা আসে আর সবাইকে সভ্য করে দেয়”
ঝিঝো দুটো বিয়ার নিয়ে বন্ধুর পাশে গেলো, আয়তাকার পাথরটার ওপারে, “কিন্তু এটা কাজ করে কী করে?”
“জানিনা, ঘষে টষে দেখেছিস?”
“নাঃ ছুঁলে যদি আবার কিছু একটা হয়?”
ওরা পুরো পাথরটাকে আগাপাশতলা দেখল আরেকবার।
“মানেটা কী! ছুঁলে কী হবে”
“জানিনা ওপাং, এটা আমাদের না, এই নীল গ্রহের জন্য এসেছে”
“তুই কী করে জানলি? এমনও হতে পারে এটা আমরা লুলু ছাড়ার পর থেকেই আমাদের পেছনে আসছে। সত্যিটা স্বীকার কর, আমাদের সাহায্য দরকার” ওপাং পুরো বিয়ারটা শেষ করে ক্যানটা গাড়িতে ছুঁড়ে ফেলে দিল “যা হয় হোক, আমি এটাকে ছুঁয়ে দেখব” আঙুলের মত একটা কিছু বাড়িয়ে দিল ওপাং পাথরটার দিকে “কিচ্ছু নেই, ধুস, ভুলভাল, একটা বড় কালো চকচকে পাথর ব্যস”
ঝিঝোও ঘষল এবার “সত্যিই পাথর ছাড়া কিচ্ছু নয়, এটা কী করে সাহায্য করবে কে জানে”
“বাজে ব্যাপার, ধুস”
“একদম”
ওরা গাড়িতে এসে বসল, বিয়ার খুলল একটা। “তবুও ব্যাপারটা কেমন যেন, এ মরতে আর যায়গা পেলনা আমাদের গাড়ির পাশেই এসে পড়তে হল? ওদের কোন শহরের পড়লেই তো পারত”
“এ মহাবিশ্ব রহস্যে ভরা ওপাং যার অনেক কিছু না জানাই ভালো”
“চুপ কর তো ঝিঝো” ওপাং গাড়ির ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেল কিছুক্ষনের জন্য আর বেড়িয়ে এলো একটা তীক্ষ্ণ ধাতুর টুকরো নিয়ে। “আমাদের এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেটে পড়তে হবে, এই গ্রহের অসভ্য জীবজন্তু আমাদের দেখে ফেলার আগে” মাটিতে লাফিয়ে নেমে পাথরটার সামনে গেল ওপাং “কিন্তু তার আগে আমি পাথরটাতে আমাদের নাম লিখে যাব, ওরাও জানুক আমারা আগে এসেছি এখানে”
“দারুণ আইডিয়া”




আস্তে আস্তে যত্ন নিয়ে ওপাং নাম খোদাই করা শেষ করলে, ঝিঝো ওর হাতে একটা বিয়ার ছুঁড়ে দিয়ে নিজেও আস্তে আস্তে ওপাং এর পাশে এসে দাঁড়াল আর মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইল নিজেদের ভাগের সামান্য অমরত্বের দিকে।
“পারফেক্ট, আমরা অমর হয়ে যাবো এইবার” ঝিঝো খুশি হয়ে বলল
পাথরে নাম লেখা খুব ভালো ব্যাপার বুঝলি তো, কেন জিজ্ঞেস করিসনা বলতে পারবোনা, এটা ভালো, ব্যস”
“কোথায় যাবো বলতো এবার?”
“আমি ভাবছিলাম কী লুলুতে আর একবার ফিরে গিয়ে চেষ্টা করলে হয়না?”
আমিও তাই ভাবছিলাম, ঝিঝো ভেবে বলল “গন্ডগোল হলে তো আবার বেরিয়ে পড়তেই পারি”
“ঠিক, যখন খুশি বেরোতে পারি”
“তাছাড়া” ঝিঝো আরও যোগ করল “কুকুরগুলোকে মিস করছি, পরেরবার ওদেরকেও সঙ্গে নেব, যা হয় হোক”
“একদম, পরের বার, এবার কেটে পড়ি এখান থেকে”
“ইয়াপ” ঝিঝো পাথরটা থেকে লাফিয়ে নামল, “কিন্তু প্রথমে, মুতব” দুজনের চোখাচোখি হতে একটা ফচকে হাসি খেলে গেল দুজনের মুখেই, দুজনেই একসাথে পাথরটার দিকে একবার আর একবার নিজেদের দিকে তাকাল।
“কেন নয়, একশোবার” লাফিয়ে উঠল ওপাং
“ইয়াপ, একশোবার”
মহাবিশ্বের পোনে নহাজার কোটি ভাষার কোন না কোন ভাষার সংবিধানে এই মহাজাগতিক পাথরের গায়ে হিসি করা উচিৎ কী উচিৎ নয় সেকথা নিশ্চই লেখা আছে, কিন্তু ঝিঝো বা ওপাং কেউই সে সংবিধান পড়েনি বা জানেনা। অনেকক্ষন চেপে রাখা হিসি বেরোনোর ভিনগ্রহী আরামের শীৎকারে ওরা পুরোনো দিনের মতোই হিসি করতে শুরু করলো পাথরটার গায়ে। যেভাবে লুলুতে ওরা বহুদিন কাজের শেষে ওদের বিয়ার কোম্পানীর পেছনের খাদটায় হিসি করেছে।
হঠাৎ তারা মৃদু শব্দটা শুনতে পেল। পাথরের ভেতর থেকেই আসছে সেটা, একটা শান্ত, সমাধিস্থ চুম্বকের মত শব্দ, ওদের কাছে যেন কত যুগের সত্যের মত ভেসে এল সেই আওয়াজ, এক অসম্ভব সুরেলা গলা যেন ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য শান্তি সুখ আর সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে নিয়ে আসছে, জ্ঞান ও আনন্দের সুরে ভরে উঠল চারপাশ, এক নতুন যুগের যেন সুচনা হচ্ছে চারদিকে। পাথরটার এই নব আনন্দে জেগে ওঠার ঘটনায় ওপাং আর ঝিঝো কেমন যেন হতবাক হয়ে গেল, নাবিকেরা যেমন দূর কোন ভিনগ্রহী বিপদসঙ্কেত শুনতে ডেকে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তেমনি করে ওরা দাঁড়িয়ে থাকল কিছুক্ষন
“আমি সব বুঝতে পারছি”
“আমিও” ঝিঝো উত্তর করল, “বুঝতে পারছি সবকিছু, সবকিছু”
“হ্যাঁ, যা ভেবেছিলাম কোনদিন বোঝা যাবেনা”
“ভালোবাসা”
“আগলে রাখা”
“কাছে টেনে নেওয়া”
“পাখি খাঁচার ভেতরেও কেন গান গায়”
“না দাঁড়া, আমি ওই খাঁচার পাখির ব্যাপারটা এখনও বুঝিনি। কিন্তু বাকিগুলো বুঝেছি, কী মুক্ত লাগছে নিজেকে, হালকা”
“ধন্যবাদ মহাবিশ্বের পাথর” ওপাং জল মুছে বলল, “আমাদের সঠিক রাস্তা দেখানোর জন্য”
“হ্যাঁ, ধন্যবাদ এটা বোঝাবার জন্যে যে এই ভুলভাল মহাবিশ্বের যেখানেই যাই না কেন বাড়ির থেকে ভালো কিচ্ছু হয়না”
“ইয়াপ” আবার জল মুছলো ওপাং
“ইয়াপ স্কোয়ার” ঝিঝো যোগ দিল,
“ইয়াপ টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি”
ওরা স্নান করতে লাগল জ্ঞান ও বোধির আশ্চর্য গানের লহরীতে, মহাবিশ্বের সবচেয়ে মিঠে রস তাদের মনের গভীরে খেলা করছে এখন। এর মধ্যে যে ওদের পেছনের ছায়াটা ক্রমে ছোট হয়ে আসছে তা বুঝতে পারলনা ওরা কোনমতেই। নড়লোনা ওরা, অবশ্য জল আসায় পুরো ব্যাপারটা ঝাপসাও ছিল ওদের কাছে, কোন ভয় আর ওদের মনে নেই, স্বর্গীয় সুরের মূর্ছনা ছাড়া আর কিছুই টের পেলনা ওরা, যখন পাথরটা শেষবারের মত নড়ে উঠল, আর তা এতই কম সময় যে তাকে মূহুর্তও ঠিক বলা যায়না, মহাবিশ্বের মহাপ্রাণের শান্ত আত্মায় ডুব দিয়ে শেষবারের মত ওরা নিজেদের গলায় শুনতে পেল একটা মহাজাগতিক “ই-য়া-য়া-প”



শেষ
এপিলোগ

এখন ব্যাপারটা হচ্ছে পৃথিবীর মাটির সাথে এই ভিনগ্রহী হিসির বেশ একটা বিক্রিয়া হয়, বেশ বীজতলার মত লদলদে কাদা হয়ে যায় মাটি। আর ওদের শারীরিক গঠন অনুযায়ী একজনের হিসির পরিমানও একবারে প্রায় লিটার তিনেক। এসব কিছু ওরা কখনো ভাবেই নি। এক সেকেন্ড পরে মহাবিশ্বের সমস্ত রহস্য ও জ্ঞানের তলায় চাপা পড়ে ওপাং আর ঝিঝো আর কিছু ভাবতে পারলোওনা।

December, 2012
*courtesy:

2001 a Space Odyssey

No comments:

Post a Comment

বাইশ গজের খাতা

Powered by Blogger.

Total Pageviews

যোগাযোগ করুন

Name

Email *

Message *

লেখা পাঠাবার ঠিকানা

আপনাদের ছোটো বা বড় গল্প পাঠান । বিশেষ করে সেই লেখাটি যা কেউ পড়বেনা ভেবে পাঠাননি আগে কোথাও। লেখা পাঠাবার ঠিকানা-mackerelblogzine@gmail.com

*[ লেখা বেছে নেবার ক্ষেত্রে সম্পাদকের রায় চুড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে । ]

Copyright © ম্যাকারেল | Powered by Blogger
Design by SimpleWpThemes | Blogger Theme by NewBloggerThemes.com | Distributed By Blogger Templates20